চাণক্য নীতি দর্পণ সারাংশ:

প্রাসঙ্গিক ও সত্য। চাণক্য নীতি দর্পণ সারাংশ: ১) যে রাজা শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা করতে পারে না এবং শুধু অভিযোগ করে যে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তাকে সিংহাসনচ্যুত করা উচিত। ২) সকল উদ্যোগ নির্ভর করে অর্থের ওপর। সেজন্যে সবচেয়ে অধিক মনোযোগ দেয়া উচিত খাজাঞ্চিখানার দিকে। তহবিল তসরুপ বা অর্থ আত্মসাতের চল্লিশটি পদ্ধতি আছে। জিহ্বা’র ডগায় বিষ রেখে যেমন মধুর আস্বাদন করা সম্ভব নয়, তেমনি কোন রাজ কর্মচারীর পক্ষে রাজার রাজস্বের সামান্য পরিমাণ না খেয়ে ফেলার ঘটনা অসম্ভব ব্যাপার। জলের নিচে মাছের গতিবিধি যেমন জল পান করে বা পান না করেও বোঝা সম্ভব নয়, অনুরূপ রাজ কর্মচারীর তহবিল তসরুপও দেখা অসম্ভব। আকাশের অতি উঁচুতেও পাখির উড্ডয়ন দেখা সম্ভব, কিন্তু রাজ কর্মচারীর গোপন কার্যকলাপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সমভাবে অসম্ভব।” ৩) বিষ থেকে সুধা, নোংরা স্থান থেকে সোনা, নিচ কারো থেকে জ্ঞান এবং নিচু পরিবার থেকে শুভলক্ষণা স্ত্রী – এসব গ্রহণ করা সঙ্গত। ৪) মনের বাসনাকে দূরীভূত করা উচিত নয়। এই বাসনাগুলোকে গানের গুঞ্জনের মতো কাজে লাগানো উচিত। ৫) যারা পরিশ্রমী, তাদের জন্যে কোনকিছুই জয় করা অসাধ্য কিছু নয়। শিক্ষিত কোন ব্যক্তির জন্যে কোন দেশই বিদেশ নয়। মিষ্টভাষীদের কোন শত্রু নেই। ৬) বিরাট পশুপালের মাঝেও শাবক তার মাকে খুঁজে পায়। অনুরূপ যে কাজ করে অর্থ সবসময় তাকেই অনুসরণ করে। ৭) মন খাঁটি হলে পবিত্র স্থানে গমন অর্থহীন। কী বুঝলেন? সেই তেইশ শত বছর আগের উপদেশ এগুলো! একটাও আজ ভুল প্রমাণিত হয়েছে? নাকি আরও বেশী প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনে? এবার আসা যাক তার রচিত বিভিন্ন শ্লোক বা উপদেশ প্রসঙ্গে- চাণক্য শ্লোক: ১) অতি পরিচয়ে দোষ আর ঢাকা থাকে না। ২) অধমেরা ধন চায়, মধ্যমেরা ধন ও মান চায়। উত্তমেরা শুধু মান চায়। মানই মহতের ধন। ৩) অনেকে চারটি বেদ এবং ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করলেও আত্মাকে জানে না, হাতা যেমন রন্ধন-রস জানে না। ৪) অন্তঃসার শূন্যদের উপদেশ দিয়ে কিছু ফল হয় না, মলয়-পর্বতের সংসর্গে বাঁশ চন্দনে পরিণত হয় না। ৫) অবহেলায় কর্মনাশ হয়, যথেচ্ছ ভোজনে কুলনাশ হয়, যাচ্ঞায় সম্মান-নাশ হয়, দারিদ্র্যে বুদ্ধিনাশ হয়। ৬) অভ্যাসহীন বিদ্যা, অজীর্ণে ভোজন, দরিদ্রের সভায় কালক্ষেপ এবং বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা বিষতুল্য। ৭) অহংকারের মত শত্রু নেই। ৮) আকাশে উড়ন্ত পাখির গতিও জানা যায়, কিন্তু প্রচ্ছন্নপ্রকৃতি-কর্মীর গতিবিধি জানা সম্ভব নয়। ৯) আদর দেওয়ার অনেক দোষ, শাসন করার অনেক গুণ, তাই পুত্র ও শিষ্যকে শাসন করাই দরকার, আদর দেওয়া নয়। ১০) আপদের নিশ্চিত পথ হল ইন্দ্রিয়গুলির অসংযম, তাদের জয় করা হল সম্পদের পথ, যার যেটি ঈপ্সিত সে সেই পথেই যায়। ১১) আড়ালে কাজের বিঘ্ন ঘটায়, কিন্তু সামনে ভাল কথা বলে, যার উপরে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ, তাকে পরিত্যাগ করা উচিত। ১২) ইন্দ্রিয়ের যে অধীন তার চতুরঙ্গ সেনা থাকলেও সে বিনষ্ট হয়। ১৩) উপায়জ্ঞ মানুষের কাছে দুঃসাধ্য কাজও সহজসাধ্য। ১৪) উৎসবে, বিপদে, দুর্ভিক্ষে, শত্রুর সঙ্গে সংগ্রামকালে, রাজদ্বারে এবং শ্মশানে যে সঙ্গে থাকে, সে-ই প্রকৃত বন্ধু। ১৫) ঋণ, অগ্নি ও ব্যাধির শেষ রাখতে নেই, কারণ তারা আবার বেড়ে যেতে পারে। ১৬) একটি দোষ বহু গুণকেও গ্রাস করে। ১৭) একটি কুবৃক্ষের কোটরের আগুন থেকে যেমন সমস্ত বন ভস্মীভূত হয়, তেমনি একটি কুপুত্রের দ্বারাও বংশ দগ্ধ হয়। ১৮) একটিমাত্র পুষ্পিত সুগন্ধ বৃক্ষে যেমন সমস্ত বন সুবাসিত হয়, তেমনি একটি সুপুত্রের দ্বারা সমস্ত কুল ধন্য হয়। ১৯) একশত মূর্খ পুত্রের চেয়ে একটি গুণী পুত্র বরং ভাল। একটি চন্দ্রই অন্ধকার দূর করে, সকল তারা মিলেও তা পারে না। ২০) কর্কশ কথা অগ্নিদাহের চেয়েও ভয়ঙ্কর। ২১) খেয়ে যার হজম হয়, ব্যাধি তার দূরে রয়। ২২) গুণবানকে আশ্রয় দিলে নির্গুণও গুণী হয়। ২৩) গুণহীন মানুষ যদি উচ্চ বংশেও জন্মায় তাতে কিছু আসে যায় না। নীচকুলে জন্মেও যদি কেউ শাস্ত্রজ্ঞ হয়, তবে দেবতারাও তাঁকে সম্মান করেন। ২৪) গুরু শিষ্যকে যদি একটি অক্ষরও শিক্ষা দেন, তবে পৃথিবীতে এমন কোনও জিনিস নেই, যা দিয়ে সেই শিষ্য গুরুর ঋণ শোধ করতে পারে। ২৫) গৃহে যার মা নেই, স্ত্রী যার দুর্মুখ তার বনে যাওয়াই ভাল, কারণ তার কাছে বন আর গৃহে কোনও তফাৎ নেই। ২৬) চন্দন তরুকে ছেদন করলেও সে সুগন্ধ ত্যাগ করে না, যন্ত্রে ইক্ষু নিপিষ্ট হলেও মধুরতা ত্যাগ করে না, যে সদ্বংশজাত অবস্থা বিপর্যয়েও সে চরিত্রগুণ ত্যাগ করে না। ২৭) তিনটি বিষয়ে সন্তোষ বিধেয়: নিজের পত্নীতে, ভোজনে এবং ধনে। কিন্তু অধ্যয়ন, জপ, আর দান এই তিন বিষয়ে যেন কোনও সন্তোষ না থাকে। ২৮) দারিদ্র্য, রোগ, দুঃখ, বন্ধন এবং বিপদ- সব কিছুই মানুষের নিজেরই অপরাধরূপ বৃক্ষের ফল। ২৯) দুর্জনের সংসর্গ ত্যাগ করে সজ্জনের সঙ্গ করবে। অহোরাত্র পুণ্য করবে, সর্বদা নশ্বরতার কথা মনে রাখবে। ৩০) দুর্বলের বল রাজা, শিশুর বল কান্না, মূর্খের বল নীরবতা, চোরের মিথ্যাই বল। ৩১) দুষ্টা স্ত্রী, প্রবঞ্চক বন্ধু, দুর্মুখ ভৃত্য এবং সর্প-গৃহে বাস মৃত্যুর দ্বার, এ-বিষয়ে সংশয় নেই। ৩২) ধর্মের চেয়ে ব্যবহারই বড়। ৩৩) নানাভাবে শিক্ষা পেলেও দুর্জন সাধু হয় না, নিমগাছ যেমন আমূল জলসিক্ত করে কিংবা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও কখনও মধুর হয় না। ৩৪) পরস্ত্রীকে যে মায়ের মত দেখে, অন্যের জিনিসকে যে মূল্যহীন মনে করে এবং সকল জীবকে যে নিজের মত মনে করে, সে-ই যথার্থ জ্ঞানী। ৩৫) পাপীরা বিক্ষোভের ভয় করে না। ৩৬) পাঁচ বছর বয়স অবধি পুত্রদের লালন করবে, দশ বছর অবধি তাদের চালনা করবে, ষোল বছরে পড়লে তাদের সঙ্গে বন্ধুর মত আচরণ করবে। ৩৭) পুত্র যদি হয় গুণবান, পিতামাতার কাছে তা স্বর্গ সমান। ৩৮) পুত্রকে যারা পড়ান না, সেই পিতামাতা তার শত্রু। হাঁসদের মধ্যে বক যেমন শোভা পায় না, সভার মধ্যে সেই মূর্খও তেমনি শোভা পায় না। ৩৯) বইয়ে থাকা বিদ্যা, পরের হাতে থাকা ধন একইরকম। প্রয়োজন কালে তা বিদ্যাই নয়, ধনই নয়। ৪০) বিদ্বান সকল গুণের আধার, অজ্ঞ সকল দোষের আকর। তাই হাজার মূর্খের চেয়ে একজন বিদ্বান অনেক কাম্য। ৪১) বিদ্যাবত্তা ও রাজপদ এ-দুটি কখনও সমান হয় না। রাজা কেবল নিজদেশেই সমাদৃত, বিদ্বান সর্বত্র সমাদৃত। ৪২) বিদ্যা ব্যতীত জীবন ব্যর্থ, কুকুরের লেজ যেমন ব্যর্থ, তা দিয়ে সে গুহ্য-অঙ্গও গোপন করতে পারে না, মশাও তাড়াতে পারে না। ৪৩) বিদ্যাভূষিত হলেও দুর্জনকে ত্যাগ করবে, মণিভূষিত হলেও সাপ কি ভয়ঙ্কর নয়? ৪৪) বিদ্যার চেয়ে বন্ধু নাই, ব্যাধির চেয়ে শত্রু নাই। সন্তানের চেয়ে স্নেহপাত্র নাই, দৈবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বল নাই। ৪৫) বিনয়ই সকলের ভূষণ। ৪৬) বিষ থেকেও অমৃত আহরণ করা চলে, মলাদি থেকেও স্বর্ণ আহরণ করা যায়, নীচজাতি থেকেও বিদ্যা আহরণ করা যায়, নীচকুল থেকেও স্ত্রীরত্ন গ্রহণ করা যায়। ৪৭) ভোগবাসনায় বুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়। ৪৮) মিত ভোজনেই স্বাস্থ্যলাভ হয়। ৪৯) যশবানের বিনাশ নেই। ৫০) যারা রূপযৌবনসম্পন্ন এবং উচ্চকুলজাত হয়েও বিদ্যাহীন, তাঁরা সুবাসহীন পলাশ ফুলের মত বেমানান। ৫১) যে অলস, অলব্ধ-লাভ তার হয় না। ৫২) যে গাভী দুধ দেয় না, গর্ভ ধারণও করে না, সে গাভী দিয়ে কী হবে! যে বিদ্বান ও ভক্তিমান নয়, সে পুত্র দিয়ে কী হবে! ৫৩) রাতের ভূষণ চাঁদ, নারীর ভূষণ পতি, পৃথিবীর ভূষণ রাজা, কিন্তু বিদ্যা সবার ভূষণ। ৫৪) শাস্ত্র অনন্ত, বিদ্যাও প্রচুর। সময় অল্প অথচ বিঘ্ন অনেক। তাই যা সারভূত তারই চর্চা করা উচিত। হাঁস যেমন জল-মিশ্রিত দুধ থেকে শুধু দুধটুকুই তুলে নেয়, তেমনি। ৫৫) সত্যনিষ্ঠ লোকের অপ্রাপ্য কিছুই নাই। ৫৬) সত্যবাক্য দুর্লভ, হিতকারী-পুত্র দুর্লভ, সমমনস্কা-পত্নী দুর্লভ, প্রিয়স্বজনও তেমনি দুর্লভ। ৫৭) সাপ নিষ্ঠুর খলও নিষ্ঠুর, কিন্তু সাপের চেয়ে খল বেশি নিষ্ঠুর। সাপকে মন্ত্র বা ওষধি দিয়ে বশ করা যায়, কিন্তু খলকে কে বশ করতে পারে? ৫৮) সুবেশভূষিত মূর্খকে দূর থেকেই দেখতে ভাল, যতক্ষণ সে কথা না বলে ততক্ষণই তার শোভা, কথা বললেই মূর্খতা প্রকাশ পায়। ৫৯) হাতি থেকে একহাজার হাত দূরে, ঘোড়া থেকে একশ হাত দূরে, শৃঙ্গধারী প্রাণী থেকে দশহাত দূরে থাকবে। অনুরূপ দুর্জনের কাছ থেকেও যথাসম্ভব দূরে থাকবে। সক্রেটিস বিশ্বাস করতেন যে, “দেহের সৌন্দর্যের চাইতে চিন্তার সৌন্দর্য অধিকতর মোহময় ও এর প্রভাব যাদুতুল্য।” অন্যদিকে চাণক্য ছিলেন দক্ষ পরিকল্পনাবিদ। সিদ্ধান্তে তিনি ছিলেন অটল এবং অর্থহীন আবেগের কোন মূল্য ছিল না তার কাছে। নিজস্ব পরিকল্পনা উদ্ভাবন ও তা বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন কঠোর। কি বুঝলেন? স্বীকারোক্তি: এই লেখার অনেক অংশ (শ্লোক ও বানী) আমি বাংলা ইউকিপিডিয়া থেকে কপি পেস্ট দিলাম যা আমি কখনো করি না। কিন্তু ভেবে দেখলাম, আমি দেখে লিখলেও একই কথা লিখতে হবে; তাই এটা করলাম। কেউ আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে নিচের লিঙ্কে যেতে পারেন। ধন্যবাদ! সূত্র: বাংলা ইউকিপিডিয়া। উৎসর্গ: আমাদের প্রিয় ক ছিলেন কঠোর। চাণক্য শ্লোক বাংলায় প্রচলিত কিছু চাণক্য শ্লোক নিচে উল্লেখ করা হলো – ১ অতি পরিচয়ে দোষ আর ঢাকা থাকে না। ২ অধমেরা ধন চায়, মধ্যমেরা ধন ও মান চায়। উত্তমেরা শুধু মান চায়। মানই মহতের ধন। ৩ অনেকে চারটি বেদ এবং ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করলেও আত্মাকে জানে না, হাতা যেমন রন্ধন-রস জানে না। ৪ অন্তঃসার শূন্যদের উপদেশ দিয়ে কিছু ফল হয় না, মলয়-পর্বতের সংসর্গে বাঁশ চন্দনে পরিণত হয় না। ৫ অবহেলায় কর্মনাশ হয়, যথেচ্ছ ভোজনে কুলনাশ হয়, যাচ্ঞায় সম্মান-নাশ হয়, দারিদ্র্যে বুদ্ধিনাশ হয়। ৬ অভ্যাসহীন বিদ্যা, অজীর্ণে ভোজন, দরিদ্রের সভায় বা মজলিশে কালক্ষেপ এবং বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা বিষতুল্য। ৭ অহংকারের মত শত্রু নেই। ৮ আকাশে উড়ন্ত পাখির গতিও জানা যায়, কিন্তু প্রচ্ছন্নপ্রকৃতি-কর্মীর গতিবিধি জানা সম্ভব নয়। ৯ আদর দেওয়ার অনেক দোষ, শাসন করার অনেক গুণ, তাই পুত্র ও শিষ্যকে শাসন করাই দরকার, আদর দেওয়া নয়। ১০ আপদের নিশ্চিত পথ হল ইন্দ্রিয়গুলির অসংযম, তাদের জয় করা হল সম্পদের পথ, যার যেটি ঈপ্সিত সে সেই পথেই যায়। ১১ আড়ালে কাজের বিঘ্ন ঘটায়, কিন্তু সামনে ভাল কথা বলে, যার উপরে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ, তাকে পরিত্যাগ করা উচিত। ১২ ইন্দ্রিয়ের যে অধীন তার চতুরঙ্গ সেনা থাকলেও সে বিনষ্ট হয়। ১৩ উপায়জ্ঞ মানুষের কাছে দুঃসাধ্য কাজও সহজসাধ্য। ১৪ উৎসবে, বিপদে, দুর্ভিক্ষে, শত্রুর সঙ্গে সংগ্রামকালে, রাজদ্বারে এবং শ্মশানে যে সঙ্গে থাকে, সে-ই প্রকৃত বন্ধু। ১৫ ঋণ, অগ্নি ও ব্যাধির শেষ রাখতে নেই, কারণ তারা আবার বেড়ে যেতে পারে। ১৬ একটি দোষ বহু গুণকেও গ্রাস করে। ১৭ একটি কুবৃক্ষের কোটরের আগুন থেকে যেমন সমস্ত বন ভস্মীভূত হয়, তেমনি একটি কুপুত্রের দ্বারাও বংশ দগ্ধ হয়। ১৮ একটিমাত্র পুষ্পিত সুগন্ধ বৃক্ষে যেমন সমস্ত বন সুবাসিত হয়, তেমনি একটি সুপুত্রের দ্বারা সমস্ত কুল ধন্য হয়। ১৯ একশত মূর্খ পুত্রের চেয়ে একটি গুণী পুত্র বরং ভাল। একটি চন্দ্রই অন্ধকার দূর করে, সকল তারা মিলেও তা পারে না। ২০ কর্কশ কথা অগ্নিদাহের চেয়েও ভয়ঙ্কর। ২১ খেয়ে যার হজম হয়, ব্যাধি তার দূরে রয়। ২২ গুণবানকে আশ্রয় দিলে নির্গুণও গুণী হয়। ২৩ গুণহীন মানুষ যদি উচ্চ বংশেও জন্মায় তাতে কিছু আসে যায় না। নীচকুলে জন্মেও যদি কেউ শাস্ত্রজ্ঞ হয়, তবে দেবতারাও তাঁকে সম্মান করেন। ২৪ গুরু শিষ্যকে যদি একটি অক্ষরও শিক্ষা দেন, তবে পৃথিবীতে এমন কোনও জিনিস নেই, যা দিয়ে সেই শিষ্য গুরুর ঋণ শোধ করতে পারে। ২৫ গৃহে যার মা নেই, স্ত্রী যার দুর্মুখ তার বনে যাওয়াই ভাল, কারণ তার কাছে বন আর গৃহে কোনও তফাৎ নেই। ২৬ চন্দন তরুকে ছেদন করলেও সে সুগন্ধ ত্যাগ করে না, যন্ত্রে ইক্ষু নিষ্পিষ্ট হলেও মধুরতা ত্যাগ করে না, যে সদ্বংশজাত অবস্থা বিপর্যয়েও সে চরিত্রগুণ ত্যাগ করে না। ২৭ তিনটি বিষয়ে সন্তোষ বিধেয়: নিজের পত্নীতে, ভোজনে এবং ধনে। কিন্তু অধ্যয়ন, জপ, আর দান এই তিন বিষয়ে যেন কোনও সন্তোষ না থাকে। ২৮ দারিদ্র্য, রোগ, দুঃখ, বন্ধন এবং বিপদ- সব কিছুই মানুষের নিজেরই অপরাধরূপ বৃক্ষের ফল। ২৯ দুর্জনের সংসর্গ ত্যাগ করে সজ্জনের সঙ্গ করবে। অহোরাত্র পুণ্য করবে, সর্বদা নশ্বরতার কথা মনে রাখবে। ৩০ দুর্বলের বল রাজা, শিশুর বল কান্না, মূর্খের বল নীরবতা, চোরের মিথ্যাই বল। ৩১ দুষ্টা স্ত্রী, প্রবঞ্চক বন্ধু, দুর্মুখ ভৃত্য এবং সসর্প-গৃহে বাস মৃত্যুর দ্বার, এ-বিষয়ে সংশয় নেই। ৩২ ধর্মের চেয়ে ব্যবহারই বড়। ৩৩ নানাভাবে শিক্ষা পেলেও দুর্জন সাধু হয় না, নিমগাছ যেমন আমূল জলসিক্ত করে কিংবা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও কখনও মধুর হয় না। ৩৪ পরস্ত্রীকে যে মায়ের মত দেখে, অন্যের জিনিসকে যে মূল্যহীন মনে করে এবং সকল জীবকে যে নিজের মত মনে করে, সে-ই যথার্থ জ্ঞানী। ৩৫ পাপীরা বিক্ষোভের ভয় করে না। ৩৬ পাঁচ বছর বয়স অবধি পুত্রদের লালন করবে, দশ বছর অবধি তাদের চালনা করবে, ষোল বছরে পড়লে তাদের সঙ্গে বন্ধুর মত আচরণ করবে। ৩৭ পুত্র যদি হয় গুণবান, পিতামাতার কাছে তা স্বর্গ সমান। ৩৮ পুত্রকে যাঁরা পড়ান না, সেই পিতামাতা তার শত্রু। হাঁসদের মধ্যে বক যেমন শোভা পায় না, সভার মধ্যে সেই মূর্খও তেমনি শোভা পায় না। ৩৯ বইয়ে থাকা বিদ্যা, পরের হাতে থাকা ধন একই রকম। প্রয়োজনকালে তা বিদ্যাই নয়, ধনই নয়। ৪০ বিদ্বান সকল গুণের আধার, অজ্ঞ সকল দোষের আকর। তাই হাজার মূর্খের চেয়ে একজন বিদ্বান অনেক কাম্য। ৪১ বিদ্যাবত্তা ও রাজপদ এ-দুটি কখনও সমান হয় না। রাজা কেবল নিজদেশেই সমাদৃত, বিদ্বান সর্বত্র সমাদৃত। ৪২ বিদ্যা ব্যতীত জীবন ব্যর্থ, কুকুরের লেজ যেমন ব্যর্থ, তা দিয়ে সে গুহ্য-অঙ্গও গোপন করতে পারে না, মশাও তাড়াতে পারে না। ৪৩ বিদ্যাভূষিত হলেও দুর্জনকে ত্যাগ করবে, মণিভূষিত হলেও সাপ কি ভয়ঙ্কর নয়? ৪৪ বিদ্যার চেয়ে বন্ধু নাই, ব্যাধির চেয়ে শত্রু নাই। সন্তানের চেয়ে স্নেহপাত্র নাই, দৈবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বল নাই। ৪৫ বিনয়ই সকলের ভূষণ। ৪৬ বিষ থেকেও অমৃত আহরণ করা চলে, মলাদি থেকেও স্বর্ণ আহরণ করা যায়, নীচজাতি থেকেও বিদ্যা আহরণ করা যায়, নীচকুল থেকেও স্ত্রীরত্ন গ্রহণ করা যায়। ৪৭ ভোগবাসনায় বুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়। ৪৮ মিত ভোজনেই স্বাস্থ্যলাভ হয়। ৪৯ যশবানের বিনাশ নেই। ৫০ যাঁরা রূপযৌবনসম্পন্ন এবং উচ্চকুলজাত হয়েও বিদ্যাহীন, তাঁরা সুবাসহীন পলাশ ফুলের মত বেমানান। ৫১ যে অলস, অলব্ধ-লাভ তার হয় না। ৫২ যে গাভি দুধ দেয় না, গর্ভ ধারণও করে না, সে গাভি দিয়ে কী হবে! যে বিদ্বান ও ভক্তিমান নয়, সে পুত্র দিয়ে কী হবে! ৫৩ রাতের ভূষণ চাঁদ, নারীর ভূষণ পতি, পৃথিবীর ভূষণ রাজা, কিন্তু বিদ্যা সবার ভূষণ। ৫৪ শাস্ত্র অনন্ত, বিদ্যাও প্রচুর। সময় অল্প অথচ বিঘ্ন অনেক। তাই যা সারভূত তারই চর্চা করা উচিত। হাঁস যেমন জল-মিশ্রিত দুধ থেকে শুধু দুধটুকুই তুলে নেয়, তেমনি। ৫৫ সত্যনিষ্ঠ লোকের অপ্রাপ্য কিছুই নাই। ৫৬ সত্যবাক্য দুর্লভ, হিতকারী-পুত্র দুর্লভ, সমমনস্কা-পত্নী দুর্লভ, প্রিয়স্বজনও তেমনি দুর্লভ। ৫৭ সাপ নিষ্ঠুর খলও নিষ্ঠুর, কিন্তু সাপের চেয়ে খল বেশি নিষ্ঠুর। সাপকে মন্ত্র বা ওষধি দিয়ে বশ করা যায়, কিন্তু খলকে কে বশ করতে পারে? ৫৮ সুবেশভূষিত মূর্খকে দূর থেকেই দেখতে ভাল, যতক্ষণ সে কথা না বলে ততক্ষণই তার শোভা, কথা বললেই মূর্খতা প্রকাশ পায়। ৫৯ হাতি থেকে একহাজার হাত দূরে, ঘোড়া থেকে একশ হাত দূরে, শৃঙ্গধারী প্রাণী থেকে দশহাত দূরে থাকবে। অনুরূপ দুর্জনের কাছ থেকেও যথাসম্ভব দূরে থাকবে। (উৎস: উইকিপিডিয়া) ৬। জ্ঞাতিরা ইহা ভাগ করিয়া লইতে সমর্থ হয় না; চোরও চুরি করিয়া নিতে পারে না। বিদ্যা দানে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না বরং বর্দ্ধিতই হয়, অতএব বিদ্যাই শ্রেষ্ঠ ধন। ৭। পণ্ডিতের সকলই গুণ, মুর্খের সকলই দোষ। সেইহেতু হাজার হাজার মুর্খ অপেক্ষা একজন পণ্ডিত ভাল। ৮। ফলযুক্ত বৃক্ষ ফলভারে নত হয়; গুণিগণও নিজগুণে নত হইয়া থাকেন, কিন্তু শুষ্ক কাষ্ঠ ও মুর্খ ভাঙ্গিয়া যাইবে, নত হইবে না। ৯। যিনি পরস্ত্রীকে নিজের মায়ের মত জ্ঞান করেন এবং পরের জিনিসকে ঢিলের মত তুচ্ছজ্ঞান করেন ও সকল প্রাণীকেই নিজের মত মনে করেন, তিনিই প্রকৃত পণ্ডিত। ১০। শত মুর্খ পুত্র অপেক্ষা একটি গুণবান পুত্রও বরং ভাল অগণিত তারাগণ অন্ধকার দূর করিতে সমর্থ হয় না, কিন্তু এক চন্দ্র জগতের অন্ধকার দূর করে। মন্তব্য ২ টি রেটিং ১০। পাঁচ বৎসর পর্যন্ত পুত্রকে যত্নে পালন করিবে; তৎপর ছয় হইতে দশ বৎসর শাসন করিবে, ষোড়শে পদার্পণ করিলে পুত্রের সঙ্গে মিত্রের ব্যবহার করিবে। ১১। একটি কুবৃক্ষের কোটরস্থ অগ্নিতে যেমন সমস্ত জঙ্গল পুড়িয়া ছাই হইয়া যায়, তেমনি একটি অসৎ পুত্রের দ্বারা সমস্ত বংশ নষ্ট হয়। ১২। সুগন্ধি পুষ্পযুক্ত একটি বৃক্ষ যেমন সমস্ত বনকে পুষ্প-সৌরভে আমোদিত করে, তেমন বংশে একটি গুণী পুত্র জন্মিলে তদ্বারা সমস্ত কুল গৌরবান্বিত। ১৩। মুর্খ সুন্দর পোশাকে ভূষিত হইয়া কথা না বলা পর্যন্তই দূর হইতে শোভা পায়; কিন্তু কথা বলিলেই মুর্খতা প্রকাশ পায়; সৌন্দর্যের গৌরব আর থাকে না। ১৪। যিনি সুখে দুঃখে, খাদ্যাভাবে, রাজ্যে নানারূপ উৎপাতকালে, এবং বিচার ক্ষেত্রে ও শ্মশানে সমানভাবে লক্ষ্য করেন তিনিই প্রকৃত বন্ধু। ১৫। চন্দ্র যেমন চণ্ডালের গৃহেও আলোক বিতরণ করিতে কুণ্ঠিত হয় না, তেমন সাধুগণ গুণহীন প্রাণীকে দয়া করিতে দ্বিধা করেন না। চাণক্য নীতি প্রথম পর্ব‬: কিভাবে হবেন অপরাজেয় শক্তি‬ October 7, 2015 হোম / Life lessons / চাণক্য নীতি প্রথম পর্ব‬: কিভাবে হবেন অপরাজেয় শক্তি‬ ‎এক:‬ বাকির আশায় নগদ ছাড়বেন না।সুদূর পরাহত সম্ভাবনার আশায় নিশ্চিত প্রাপ্তি ছেড়ে দেয়াটা মূর্খতা আমরা বাংলাদেশীরা “ভবিষ্যতে ব্যবসা করে মাসে মাসে লভ্যাংশ দেবে”- এই আশায় নিজের সঞ্চিত টাকাপয়সা অর্ধপরিচিত উটকো লোকজনের মিষ্টি কথায় ভুলে কে কে দিয়ে দিয়েছি, হাত তুলুন তো!! ‎ দুই:‬ বিষ থেকে মধু বের করে নিন, কাদামাটি ধুয়ে স্বর্ণ আহরণ করুন। সমাজের নীচের দিকে থাকা লোকের কাছ থেকেও জ্ঞান আহরণ করুন, গুনী মেয়ের জাতপাত বিচার না করে তাকেই ঘরে তুলুন। মৃতদেহের সুরতহাল কিভাবে করতে হয়, গ্রামদেশে প্রচন্ড রক্ষণশীল পরিবেশেও কিভাবে নিজের পুলিশি তল্লাশী ঠিকই করে নেয়া যায়- আমাকে সবচেয়ে ভালোভাবে হাতে ধরে শিখিয়েছিল দামুড়হুদা থানার এস আই ফারুক, যে কিনা কন্সটেবল থেকে ধাপে ধাপে উপরে উঠেছে। জ্ঞানের রাস্তায় কোন এলিট-নন এলিট নেই, যেখানে পান আহরণ করে নিন! তিন‬: সত্যিকারের সন্তান তার পিতামাতার প্রতি বাধ্যগত, সত্যিকারের বন্ধুর কাছে গোপন কথা বলা যায়, সত্যিকারের জীবনসঙ্গিনীর সান্নিধ্যে তার সঙ্গী তৃপ্তি এবং প্রশান্তি লাভ করে। খেয়াল করুন,এখানে সঙ্গী/সঙ্গিনীর রূপ-গুণ, টাকাপয়সা এমনকী জ্ঞানের কথাও বলা হয়নি। হার্ভার্ড পিএইচডিধারী সঙ্গী যদি আপনাকে মানসিক প্রশান্তি এবং পরিতৃপ্তি দিতে নয়া পারে, ওই সঙ্গীর সান্নিধ্য মোটেই কাম্য নয়। চার‬: আপনার সামনে মিষ্টি কথা বলা আর পেছনে কটু কথা বলা লোকটা দুধের সাথে মেশানো বিষের শিশির মতই বিপজ্জনক। পাঁচ: খারাপ সঙ্গীকে বিশ্বাস করবেন না, স্বল্প-পরিচিত বন্ধুকে বিশ্বাস করে গোপন কথা বলবেন না। আপনার উপর রাগ হওয়ামাত্রই সে গোপন কথা আপনার শত্রুকে বলে দেবে।canstock10267585 ছয়‬: নিজের উদ্দেশ্য কখনো সরাসরি বলে দেবেন না। যা করতে চান তা গোপন রাখুন, চুপেসারে কাজ করে ফেলুন, সঠিক সময়ে আঘাত হানুন।climberman-530 ‎ সাত‬: যে পিতামাতা সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেনা সে পিতামাতা আসলে সন্তানের শত্রু।Lance_opener_Flaherty জ্বি, এটাই বাস্তব সত্য, তেইশশ বছর আগে যে সত্য অনুধাবন করেছিলেন চাণক্য, সেটা এই দুহাজার পনেরতে বসে আমরা ভুলে যাই। আপনার বাবা মা যদি পড়াশোনার বদলে বিয়েশাদি করতে চাপ দেন, নিজের মতের বিপরীতে গিয়ে সেই চাপে দয়া করে নত হবেন না। পরিণাম কিন্তু আপনি ভূগবেন, মা বাবা নয়! ‪ আট: নতুন কিছু শিখতে যেন একটা দিনও বাদ না থাকে। হোক সেটা এক পৃষ্ঠা, একটা লাইন, এমনকী একটা অক্ষর।knowledge-is-power আজকের শেখা একটা অক্ষর বহুবছর পর আপনার জীবনকে পালটে দিতে পারে মোক্ষম সময় এলেই। নয়‬: আগুণ ছাড়াই ছয়টি অবস্থায় আপনি জ্বলে পুড়ে মরবেনfinal স্ত্রীর থেকে দূরে থাকলে, নিজের লোকের দ্বারা অপমানিত হলে, যুদ্ধে শত্রুর পক্ষ নিতে বাধ্য হলে, দুষ্ট শাসকের সেবা করলে, দরিদ্র হলে অথবা বিশৃঙ্খল কোন প্রতিষ্ঠানের সদস্য হলে। আমার নিজস্ব অভিমত, উপরের ছয়টা ক্ষেত্রে যত জ্বলন জ্বলতে হয়, এক খারাপ স্ত্রী কপালে পড়লে এই ছয়টা সবগুলো একত্রে করলে যা হয় তার চাইতে বেশি জ্বালা জ্বলা লাগে। একটাই জীবন, এই জ্বলুনি সহ্য করার প্রশ্নই আসেনা। If you feel like burning, kick off the fire-come what may ‪ দশ‬: যে গাছে ফল হয়না সেটাকে পাখিরা পর্যন্ত ত্যাগ করে। আপনি যদি ফলপ্রসূ কিছু করার যোগ্যতা অর্জন না করেন, সবাই আপনাকে পরিত্যাগ করবে।stock--success ‪ এগারো‬: সাপ আর বিশ্বাসঘাতকের মধ্যে সাপ বেশি নিরাপদ। সাপ ছোবল মারে শুধুমাত্র আক্রান্ত হলে কিন্তু বিশ্বাসঘাতক বদমায়েশ ছোবল মারে বিনা কারনেই।girl-with-mask আমার সাজেশন- বিশ্বাসঘাতকের সাথে ধোঁকাবাজি করতে দ্বিধা করবেন না। যেমন কুকুর, তেমন মুগুর। বার‬: সীতা অপহৃত হয়েছিল তার অতিরিক্ত সৌন্দর্যের কারণে, রাবণের পতন হয়েছিল তার ইগোর কারণে। অতিরিক্ত কোনকিছুই ভালো নয়। তের‬: পাঁচ বছর বয়েস পর্যন্ত সন্তানকে আদরের সাথে জড়িয়ে ধরুন, পরের দশ বছর তাকে কঠোর শৃঙ্খলার ভেতরে রাখুন। বয়েস ষোল হওয়ামাত্র তাকে নিজের সমান, একজন বন্ধু হিসেবে আচরণ করুন। প্যারেন্টিং এর এর চাইতে সহজ সরল কিন্তু অসামান্য পরামর্শ তেইশ শ বছর আগের!!!! ভাবা যায়!!! ‪ চোদ্দ‬: যতক্ষণ পর্যন্ত সুস্থ্য শরীর আছে এবং মৃত্যু অতি নিকটবর্তী বলে মনে হচ্ছেনা- নিজের আত্মাকে পরিশীলিত করতে থাকুন। প্রিয় পাঠক, এটা আসলে নিয়মিত জিমে যাওয়ার সেকালের আহবান। শরীর সুস্থ না থাকলে মনের উন্নয়ন ভয়াবহ কঠিন, এটা মাথায় রাখুন! পনের‬: স্বর্ণের শুদ্ধতা পরীক্ষা করা হয় চারভাবেঃ ঘষে, কেটে, উত্তপ্ত করে এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে। একজন মানুষের মূল্যও চারভাবে নির্ধারণ করা যায়ঃ তার স্বার্থত্যাগ, আচরণ, গুণ এবং কাজকর্মের ধরণ দেখে। জাপানিজ বারবিকিউ খেতে আসা আমার এক পরিচিত লোক হালাল মাংস না পেয়ে অভুক্ত থাকে, এই ভাইজানই সন্ধ্যার সময় তুর্কিশ দোকানে বসে রেড ওয়াইন আর দোনার কাবাব চিবোয়। সততা সম্পর্কে জ্ঞান দেয়া এক সরকারী কর্মকর্তা কথা শেষ হবার পর আমাদের আপ্যায়নের ভার দেয় তার পরিচিত এক ব্যবসায়ীকে, যার সাথে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকার কথা না। মোদ্দাকথা হল, কাজ দেখুন, কথা নয়। ষোল‬: জন্মান্ধ ব্যক্তি যেমন দেখতে পায়না, কামান্ধ ব্যক্তিরও ভুল-শুদ্ধ জ্ঞান লোপ পায়। মাত্রাজ্ঞান ছাড়াই শারীরিক আনন্দের দিকে যে লোক নজর দেয়, তার কাছ থেকে সাবধানে থাকুন। সুখাদ্য, সুস্থ যৌনতা ইত্যাদি শারীরিক আনন্দ অতীব জরুরী ওতে সন্দেহ নেই। কিন্তু যে লোকের কাছে ওগুলোই সব- এরকম লোকের কাছ থেকে দূরে থাকুন। “স্থান-কাল-পাত্র” বলে যে ব্যাপারটা আছে এটা যার মাথায় কাজ করেনা, ও ব্যাটা সুযোগ পেলে আপনার দিকেও হাত বাড়াবে। ‎ সতের‬: লোভী লোককে উপহার দিয়ে, জেদী লোককে বিনয় বা প্রশংসা দিয়ে এবং বোকাকে আনন্দ দিয়ে বশ করতে পারবেন, কিন্তু একজন জ্ঞানী লোককে বশ করতে পারবেন শুধুমাত্র সত্য দিয়ে। প্রিয় পাঠক, এখন আপনি যদি বোকাকে সত্য, লোভীকে বিনয় বা জ্ঞানী লোককে উপহার দিয়ে বশ করতে চান, হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেয়া মোটামুটি নিশ্চিত। যে দেবতা যে পূজায় তুষ্ট তাকে সেটা দিতে হবে, হোমোসেক্সুয়াল দেবতার কাছে ঐশ্বরিয়াকে পাঠিয়ে কি লাভ?! ইয়ে, আমাকে বশ করতে চান? বই দিন!যে গর্দভগুলো টাকাপয়সা, নারী ইত্যাদি দিয়ে বশ করতে চাইতো এই অধমকে- আহা, তারা যদি জানতো আসল জিনিস কি!!! (যেহেতু প্রকাশ্যে বলে দিলাম, এখন এইটা আর কাজ করবেনা) ) সিংহের কাছে একটি, সারস পাখির কাছ থেকে একটি, মোরগের কাছ থেকে চারটি, কাকের কাছে পাঁচটি, কুকুরের কাছ থেকে ছয়টি এবং গাধার কাছ থেকে তিনটি শিক্ষণীয় বিষয় গ্রহণ করো। –সিংহের কাছে একটি চমৎকার শিক্ষণীয় বিষয় হলো, মানুষ যা কিছু করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বা ইচ্ছে করবে, তা করতে হবে আন্তরিকতার সাথে সর্বশক্তি নিয়োগের মাধ্যমে। –জ্ঞানবান মানুষের সারসের মতো ধৈর্য ধারণ করা উচিত এবং তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা উচিৎ স্থান, কাল ও সক্ষমতার নিরিখে প্রজ্ঞার মাধ্যমে। — মোরগের কাছে চারটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো, সঠিক সময়ে বিছানা ত্যাগ করতে হবে, অনড় অবস্থানে থেকে লড়াই করতে হবে, নিজেদের সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বিভাজন করতে হবে, নিজের খাবার নিজেকেই কষ্ট করে সংগ্রহ করতে হবে। — স্ত্রীর সাথে গোপনে মিলিত হওয়া, দৃঢতা, প্রয়োজনীয় জিনিসের সংরক্ষণ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং সহজে অন্যকে বিশ্বাস না করা, এই পাঁচটি বিষয়ে কাকদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। — প্রচন্ড ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও খুব সামান্যতে অথবা কোনো খাবার না পেলেও তৃপ্ত থাকা, অন্যরা গভীর ঘুমে মগ্ন থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে জাগ্রত হওয়া, প্রভুর প্রতি সপ্রতিভ অনুরাগ এবং দুঃসাহসিকতা । এই পাঁচটি শিক্ষণীয় বিষয়ে কুকুরের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। –অত্যন্ত পরিশ্রান্ত হওয়ার পরেও একটি গাধা ভারবাহী বোঝা বয়েই চলে, সে ঠান্ডা এবং উত্তাপের ব্যাপারে উদাসীন থাকে এবং সব সময়ই সপ্রতিভ। এই তিনটি বিষয় গাধার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ। — এই বিশটি গুনাবলী যে চর্চা করবে সে তার উপর অর্পিত যে কোন দায় দায়িত্ব বা কাজ সার্থকভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। তথ্যসূত্রঃ এবং কৌটিল্যের নীতিশাস্ত্র – মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক chanakya_artistic_depictionপর্ব-৪ ** যা বিগত হয়েছে তা নিয়ে আমাদের চিন্তা করা উচিৎ নয়। ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন হওয়া উচিৎ নয়। বোধ সম্পন্ন লোকেরা বর্তমান নিয়ে চিন্তা করেন। ** বলা হয়ে থাকে যে একজন সাধু যখন তার পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন, তখন ক্রমানুসারে জানান যে, সত্যবাদিতা আমার মাতা, আধ্যাত্মিক জ্ঞান হলো আমার পিতা, কল্যাণকর আচরণ হলো আমার ভ্রাতা, আমার বদান্যতা হলো বন্ধুবান্ধব, অভ্যন্তরীণ প্রশান্তি হলো আমার স্ত্রী এবং ক্ষমাশীলতা হলো আমার সন্তান; এই ছয়টি হলো আমার জ্ঞাতি গোষ্ঠী। ** আমাদের শরীর হলো পচনশীল। সম্পদও কোনোভাবেই চিরস্থায়ী নয় এবং মৃত্যু সবসময়ই কাছাকাছি থাকে। অতএব অতি শীঘ্র আমাদের নিজেদের মেধাভিত্তিক কাজে নিয়োজিত করা উচিৎ **প্রজ্ঞার প্রতি ভালোবাসা, মনোমুগ্ধকর ভাষণ, দয়া দাক্ষিণ্যের আন্তরিক অভিপ্রায়, মিত্রদের সাথে কপটতাহীন লেনদেন, গুরুর উপস্থিতিতে বিনম্রতা, স্নায়বিক স্থিরাবস্থা, বিশুদ্ধ আচরণ, বোধশক্তি দ্বারা গুণ বিচার, শাস্ত্র জ্ঞান উপলব্ধিকরণ একজন প্রকৃত মানুষের নিকট কাম্য। **ভ্রমণ প্রাক্কালে বন্ধুর মতো পাশে থাকে অর্জিত বিদ্যা, বসতবাড়িতে বন্ধুর ভূমিকায় পাশে থাকে স্ত্রী,অসুস্থতার সময় বন্ধু হিসেবে পথ্য এবং মৃত্যুর সময় বন্ধুর মতো পাশে থাকে মেধা নির্ভর কর্মকান্ড। *** বিন্দু বিন্দু জলে যেমন পাত্র পূর্ণ হয় তেমনি জ্ঞান, গুণাবলী এবং সম্পদও ক্রমান্বয়ে অর্জিত হয়। *** যে ব্যক্তি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং যে ব্যক্তি চাতুর্যের সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে, তারা উভয়ে সুখি হয় কিন্ত ভাগ্য বিশ্বাসী যে ব্যক্তি সব কিছু ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয় সে ব্যক্তি ধ্বংস হয়ে যায়। ** অন্যদের সুখ্যাতির তাপে কদর্য লোকদের হৃদয় অগ্নিদ্বগ্ধ হয় এবং তারা উচ্চ মর্যাদায় আসীন হতে না পেরে নিজেদের সমালোচনা না করে অন্যকে কটাক্ষ করে। তথ্যসূত্রঃ এবং কৌটিল্যের নীতিশাস্ত্র – মানিক ঘষামাজা, কাটাকাটি, উত্তপ্ততা এবং আঘাতের মাধ্যমে অর্থাৎ এই চারটি পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা যায়, তেমনি একজন মানুষকেও শুদ্ধাচারণ, ব্যবহার, গুণাগুণ এবং কার্যকলাপ; এই চারটি পদ্ধতিতে পরিমাপ বা পরীক্ষা করা উচিৎ ** যে ব্যক্তি স্বর্গের পথে যেতে চায় তার জন্য প্রয়োজন হলো; কথার পবিত্রতা, মনের পরিশুদ্ধতা, ভাবনার শুদ্ধতা এবং একটি সংবেদনশীল হৃদয়। ** নিম্ন শ্রেণির লোকেরা প্রত্যাশা করে সম্পদ। মধ্যবিত্তেরা সম্পদ এবং সম্মান দুটোই প্রত্যাশা করেন। কিন্ত সম্ভ্রান্ত লোকেরা শুধু সম্মানই প্রত্যাশা করেন। বস্তত সম্মান, মর্যাদাই হলো সম্ভ্রান্ত মানুষের সম্পদ। **বারংবার যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে তা হলো; সঠিক সময়, সঠিক বন্ধু, সঠিক স্থান, উপার্জনের সঠিক উপায়, সঠিক পদ্ধতিতে ব্যয় এবং ক্ষমতা অর্জনের প্রকৃত উৎস। **অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষণ কার্যকর থাকে। সদাচরণের মাধ্যমে পারিবারিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে। সম্মানিত ব্যক্তিগণ তাদের গুণাবলীর উৎকর্ষতার কারণে পরিচিতি পেয়ে থাকেন এবং ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ পরিদৃষ্ট হয় চোখে। ** পরোপকারের সুবাদে দারিদ্র্য দূরীভূত হয়, ন্যায়নিষ্ঠতার সাহায্যে দুঃখ যাতনার অবসান ঘটে, বিচক্ষণতার মাধ্যমে অজ্ঞানতা এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষণের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কিত ভীতি দূরীভূত হয়। ** কামুকতার মতো ধ্বংসাত্মক কোনো মারাত্মক ব্যাধি নেই। মোহগ্রস্থতার মতো বৃহৎ কোনো শত্রু নেই। ক্রোধের মতো ভয়াবহ কোনো অগ্নি নেই। ** দরিদ্ররা প্রত্যাশা করে ধন সম্পদ, পশুপ্রাণিরা প্রত্যাশা করে কথা বলার সক্ষমতা, সাধারণ মানুষেরা প্রত্যাশা করে স্বর্গারোহন এবং ধার্মিক মানুষের প্রত্যাশা আত্মশুদ্ধি। ** একজন লোভার্ত মানুষকে উপহার সামগ্রী দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবে, একজন একগুয়ে গোঁয়ারকে করজোড়ে প্রণাম করে শুভেচ্ছা জানাবে, একজন নির্বোধ মুর্খকে হাস্যকরভাবে এবং সুশিক্ষিত মানুষকে সত্য কথার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাবে। ** যে ব্যক্তি আর্থিক লেনদেনের সময়, জ্ঞানার্জনের সময়, খাদ্যগ্রহণের সময় এবং কাজ কর্মের সময় কোন সংকোচ বোধ করবেনা সে ব্যক্তি সুখি হবে। ** মানুষের সাথে অকপটে সহজ সরল লেনদেন করবেনা, অরণ্যে চলাচলের সময় দেখবে বাঁকা গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে আর সোজা গাছগুলো রান্নার জ্বালানি কাঠ হিসেবে ব্যবহারের জন্য কর্তন করা হয়েছে। ** যেসব কারণে নরকের নানা দিক এই পার্থিব জগতেও পরিদৃষ্ট হতে পারে তা হলো; ভয়ানক ক্রোধ, কটূ বাক্য, শত্রুতা, কদর্য লোকের সাহচর্য, অপদার্থ ব্যক্তিকে সেবা প্রদান। তথ্যসূত্রঃ এবং কৌটিল্যের নীতিশাস্ত্র – মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক ঘষামাজা, কাটাকাটি, উত্তপ্ততা এবং আঘাতের মাধ্যমে অর্থাৎ এই চারটি পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা যায়, তেমনি একজন মানুষকেও শুদ্ধাচারণ, ব্যবহার, গুণাগুণ এবং কার্যকলাপ; এই চারটি পদ্ধতিতে পরিমাপ বা পরীক্ষা করা উচিৎ ** যে ব্যক্তি স্বর্গের পথে যেতে চায় তার জন্য প্রয়োজন হলো; কথার পবিত্রতা, মনের পরিশুদ্ধতা, ভাবনার শুদ্ধতা এবং একটি সংবেদনশীল হৃদয়। ** নিম্ন শ্রেণির লোকেরা প্রত্যাশা করে সম্পদ। মধ্যবিত্তেরা সম্পদ এবং সম্মান দুটোই প্রত্যাশা করেন। কিন্ত সম্ভ্রান্ত লোকেরা শুধু সম্মানই প্রত্যাশা করেন। বস্তত সম্মান, মর্যাদাই হলো সম্ভ্রান্ত মানুষের সম্পদ। **বারংবার যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে তা হলো; সঠিক সময়, সঠিক বন্ধু, সঠিক স্থান, উপার্জনের সঠিক উপায়, সঠিক পদ্ধতিতে ব্যয় এবং ক্ষমতা অর্জনের প্রকৃত উৎস। **অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষণ কার্যকর থাকে। সদাচরণের মাধ্যমে পারিবারিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে। সম্মানিত ব্যক্তিগণ তাদের গুণাবলীর উৎকর্ষতার কারণে পরিচিতি পেয়ে থাকেন এবং ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ পরিদৃষ্ট হয় চোখে। ** পরোপকারের সুবাদে দারিদ্র্য দূরীভূত হয়, ন্যায়নিষ্ঠতার সাহায্যে দুঃখ যাতনার অবসান ঘটে, বিচক্ষণতার মাধ্যমে অজ্ঞানতা এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষণের মাধ্যমে কোনো বিষয় সম্পর্কিত ভীতি দূরীভূত হয়। ** কামুকতার মতো ধ্বংসাত্মক কোনো মারাত্মক ব্যাধি নেই। মোহগ্রস্থতার মতো বৃহৎ কোনো শত্রু নেই। ক্রোধের মতো ভয়াবহ কোনো অগ্নি নেই। ** দরিদ্ররা প্রত্যাশা করে ধন সম্পদ, পশুপ্রাণিরা প্রত্যাশা করে কথা বলার সক্ষমতা, সাধারণ মানুষেরা প্রত্যাশা করে স্বর্গারোহন এবং ধার্মিক মানুষের প্রত্যাশা আত্মশুদ্ধি। ** একজন লোভার্ত মানুষকে উপহার সামগ্রী দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবে, একজন একগুয়ে গোঁয়ারকে করজোড়ে প্রণাম করে শুভেচ্ছা জানাবে, একজন নির্বোধ মুর্খকে হাস্যকরভাবে এবং সুশিক্ষিত মানুষকে সত্য কথার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাবে। ** যে ব্যক্তি আর্থিক লেনদেনের সময়, জ্ঞানার্জনের সময়, খাদ্যগ্রহণের সময় এবং কাজ কর্মের সময় কোন সংকোচ বোধ করবেনা সে ব্যক্তি সুখি হবে। ** মানুষের সাথে অকপটে সহজ সরল লেনদেন করবেনা, অরণ্যে চলাচলের সময় দেখবে বাঁকা গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে আর সোজা গাছগুলো রান্নার জ্বালানি কাঠ হিসেবে ব্যবহারের জন্য কর্তন করা হয়েছে। ** যেসব কারণে নরকের নানা দিক এই পার্থিব জগতেও পরিদৃষ্ট হতে পারে তা হলো; ভয়ানক ক্রোধ, কটূ বাক্য, শত্রুতা, কদর্য লোকের সাহচর্য, অপদার্থ ব্যক্তিকে সেবা প্রদান। তথ্যসূত্রঃ এবং কৌটিল্যের নীতিশাস্ত্র – মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক chanakya_artistic_depiction৩য় পর্ব ** দরিদ্র পরিবারে/নীচ কুলে জন্মগ্রহন করেও যদি কেউ শিক্ষা গ্রহণে সক্ষম হয় তাহলে সে সম্মানিত হতে পারে এমনকি দেবতার আসনেও আসীন হতে পারে। **একজন সুশিক্ষিত ব্যক্তি জনগণের দ্বারা সম্মানিত হয়ে থাকেন। সুশিক্ষার কারণে একজন শিক্ষিত মানুষের নির্দেশনা সর্বত্র সমাদৃত হয়ে থাকে। বস্তত শিক্ষা সর্বত্রই সমাদর লাভ করে। ** সকল ধরনের বৈষয়িক সুখের মধ্যে সুস্বাদু খাদ্যই সর্বোৎকৃষ্ট। শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যে চোখই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ আর শরীরের সমস্ত অংশের মধ্যে সেরা আসনটি দখল করে আছে মস্তিষ্ক। ** নিয়মিত চর্চা না করলে জ্ঞান অবলুপ্ত হয়ে যায়। অজ্ঞানতার কারণে একজন মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যায়। সেনাধ্যক্ষ ছাড়া একজন সৈনিক বিলুপ্ত হয়ে যায়। **বৃদ্ধ বয়সে স্ত্রীর মৃত্যু হলে, আত্মীয় পরিজনকে ধার হিসেবে অর্থ প্রদান করলে এবং খাদ্যের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল হলে একজন লোকের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। ** ভারসাম্যপূর্ণ মনের ন্যায় কোন সংযম নেই। আত্মসন্তুষ্টির সমতুল্য কোনো সুখ নেই। লালসার চেয়ে বড় কোনো রোগ নেই এবং ক্ষমাশীলতার সমার্থক কোন গুন নেই। **জ্ঞান হলো কামধেনু যে সারাজীবন দুগ্ধ প্রদান করে থাকে এবং পরিতৃপ্তি হলো ইন্দ্রের বাগিচা বা নন্দন কানন। আর ক্রোধ হলো যমরাজের মূর্তিস্বরূপ। ** সদ বা ভালো বংশে জন্মের বহিঃপ্রকাশ হলো ন্যায়পরায়ণ আচরণ। নৈতিক উৎকর্ষতা হলো ব্যক্তিগত সৌন্দর্যের অলংকার। মন্দ আচরণের কারণে সদবংশে জন্মগ্রহণ অর্থহীন হয়ে যায়। ** একটি সাপ নির্বিষ হওয়া সত্ত্বেও ফণা তুলে যে আতঙ্কের উদ্রেক করে, মানুষকে ভীত সন্ত্রস্ত করার জন্য ওটুকু যথেষ্ট। এক্ষেত্রে তার মধ্যে বিষ আছে কি নেই তা বিবেচ্য নয়। **কোন ব্যক্তির সম্পদ না থাকলেও সে নিঃস্ব হয়ে যায়না। যদি শিক্ষিত হয় তবে সে ধনবানই থেকে যায়। কিন্ত মানুষের মধ্যে শিক্ষা না থাকলে সে সকল ক্ষেত্রে নিঃস্ব হয়ে যায়। ** মালয় পাহাড়ে একই সাথে বেড়ে উঠলেও বাঁশ যেমন চন্দন কাঠের গুণাবলী অর্জন করতে পারেনা, ঠিক তেমনি শূন্য মস্তিষ্কসম্পন্ন লোকেরা নির্দেশনা পেয়েও লাভবান হননা। ** আগুনে পুড়িয়ে সুরা পাত্রের সমস্ত সুরা বাষ্পীভবনের মাধ্যমে নিঃশেষিত করলেও যেমন সুরাপাত্র বিশুদ্ধ হয়না, তেমনি পবিত্র পানি দিয়ে শতবার ধোলাই করলেও নোংরা মন কখনো নিষ্কলুষ হয়না। ** নিম গাছের গোড়ায় যতই দুধ এবং ঘি ঢালা হোকনা কেন নিম কখনো মিষ্টি হয়না, ঠিক তেমনি বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পদ্ধতিতে উপদেশ প্রদান করা হলেও মন্দ মানুষ কখনো পাপমুক্ত হয়না। তথ্যসূত্রঃ এবং কৌটিল্যের নীতিশাস্ত্র – | চাণক্যজন কহেন…০৪ |নীতিকথা-০১| -রণদীপম বসু … বিদ্বত্ত্বঞ্চ নৃপত্বঞ্চ নৈব তুল্যং কদাচন। স্বদেশে পূজ্যতে রাজা বিদ্বান্ সর্বত্র পূজ্যতে।। ০১।। (চাণক্য নীতিশাস্ত্র)। অর্থাৎ : বিদ্যাবত্তা এবং রাজপদ কখনোই সমান হয় না। রাজা কেবলমাত্র নিজ রাজ্যেই সম্মান পান, বিদ্বান (স্বদেশ-বিদেশ) সর্বত্র সম্মান পান। . চাণক্য নীতিশাস্ত্রের প্রথম শ্লোক এটি। শ্লোকটির বহুল ব্যবহৃত দ্বিতীয় চরণটা আমাদের কাছে খুবই পরিচিত মনে হওয়ার কথা। কারণ, ‘স্বদেশে পূজিত রাজা, বিদ্বান সর্বত্র’- এরকম একটা ভাবসম্প্রসারণের বিষয় মাধ্যমিক ক্লাসের জন্য যথার্থই বলা চলে। এবং মজার বিষয় হলো, এরকম একটা বিষয় নিয়ে ভাবতে বসলে আমরা যে-যত বিদ্যাদিগ্গজই হয়ে উঠি না কেন, বিশেষ ব্যতিক্রম বাদ দিলে, আমাদের মাধ্যমিক পর্যায়ের জ্ঞানটাই খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে আমাদের নির্দ্বিধ ব্যাখ্যাটা এগিয়ে যেতে থাকবে এভাবে- বিদ্বানের সম্মান সর্বত্রই। নিজের দেশে বিদ্বান ও রাজা দুজনেই সম্মান ও মর্যাদা পেলেও বিদ্বানের সম্মান কিন্তু নিজ দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। রাজা স্বদেশে ক্ষমতা ও আধিপত্যের জোরে যে সম্মান আদায় করে নেন, বিদেশে এই সম্মান না-ও পেতে পারেন। এখানেই বিদ্বান ও রাজার মধ্যে পার্থক্য এবং ইত্যাদি ইত্যাদি…। . কেন ? নিরবচ্ছিন্ন কথার মাঝখানে এরকম দুর্মুখের মতো ছোট্ট একটা প্রশ্ন আমাদের মাধ্যমিক পর্যায়ের জ্ঞানস্রোতকে মুহূর্তের জন্যে থমকে দেয়াটা অসম্ভব নয়। কিঞ্চিৎ বিরক্তি নিয়েই এর উত্তর দেয়ার একটা চেষ্টা করবো নিশ্চয়ই। হয়তো এভাবেই বলবো তখন- যিনি সম্যক বিদ্যা অর্জন করেন তিনিই বিদ্বান। যেহেতু বিদ্যা সকল দেশেই প্রার্থিত, তাই বিদ্যার সম্মান সর্বত্রই রয়েছে। কিন্তু রাজা হলেই যে তিনি বিদ্বান হবেন এমন তো কথা নেই ! অতএব রাজা এবং বিদ্বানের মধ্যে পার্থক্য তো একটা রয়েছেই ! . একটু খেয়াল করলেই বোঝা যাবে যে, আমাদের চিন্তাস্রোত কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায় ছেড়ে আরেকটু উপরের দিকে উড্ডীন হয়ে গেছে। এবং এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে তখনই যখন মূর্খের মতো আরেকটা বেয়ারা প্রশ্ন এসে খাড়ার মতো সামনে দাঁড়িয়ে যাবে- বিদ্যা কী ? তাই তো ! পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে জুতসই উত্তর লিখার জন্য কয়েক গাদা বইয়ের পাতা মুখস্ত করাই কি বিদ্যা ? কিন্তু তা কেন হবে ! তাহলে বিদ্যা কি বড় বড় কিছু সনদ বা প্রশংসাপত্র ? তাও নিশ্চয়ই নয়। তাহলে কী ? ফাঁক গলে কেউ হয়তো এরকম একটা উত্তর নিয়ে হাজির হয়ে যেতে পারেন যে- কোনো বিষয়ে বিশেষ যে জ্ঞান তা-ই বিদ্যা। কিন্তু এতেও কি স্থির থাকার উপায় আছে ? প্রশ্নের সমস্যাটাই হলো একবার শুরু হয়ে গেলে তা থামানো মোটেও সহজ হয় না। কোন্ বিষয়ে জ্ঞান, কী ধরনের জ্ঞান, কেন এ জ্ঞান, এ জ্ঞান কোন্ পর্যায়ে আহরিত হলে তাকে বিদ্যা বলা হবে, কেন এ বিদ্যাকে সর্বত্র পূজিত হতে হবে, এ বিদ্যা কি চিরায়ত ? ইত্যাদি ইত্যাদি প্রচুর ডালপালা বিস্তৃত হতেই থাকবে যতক্ষণ না তাকে একটা সন্তোষজনক সংজ্ঞায় আবদ্ধ করা যায়। এবং এখানেও সন্দেহ, আদৌ কি কোনো সংজ্ঞায় আবদ্ধ করা সম্ভব ? . ফাঁকতালে আরেকটা কথা বলে রাখা মনে হয় অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, এককালে জ্যোতিষশাস্ত্র নামক ভয়ানক গুরুত্ববহ একটা বিদ্যাকে একালের আলোকে মুক্তচিন্তক জ্ঞানপিপাসুরা সম্পূর্ণ প্রতারণা ও ভাওতাবাজিপূর্ণ একটি অপবিদ্যা হিসেবেই চিহ্নিত করেন। অতএব যুগে যুগে বিদ্বান বা জ্ঞানীর সংজ্ঞাতেও যে এরকম অনেক মোহন হেঁয়ালির বিভ্রম মিশে থাকতে পারে, সেদিকেও সতর্ক থাকার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে না কখনোই। . তাহলে শুরুতেই আমরা যে নীতিবাক্যটিকে আমাদের জটিলতামুক্ত ভাবনায় স্রেফ সহজ সরল একটা মনোরম বাক্য বলেই ধরে নিয়েছিলাম, আদতে কি তা ? আর কূটতর্ক জুড়ে গেলে আসলে কোন কিছুই যে জটিলতামুক্ত থাকে না, সেটাও ভাবনার বিষয়। তবে এখানে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, উদ্ধৃত শ্লোকটি শুধুমাত্র একটি বচনই নয়। মানবসভ্যতার প্রাচীন জ্ঞানজগতের এক অসামান্য প্রতিভাধর বিদ্বান ও প্রাজ্ঞ দার্শনিক কৌটিল্য তথা চাণক্যের নীতিশাস্ত্রের অন্যতম শ্লোক এটি। এরকম অনেকগুলো শ্লোকের সমাহার হলো সেই নীতিশাস্ত্র, প্রায় আড়াইহাজার বছর পেরিয়ে এসেও আমাদের সমাজ-সংস্কৃতি-সভ্যতায় অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে যার অতুলনীয় অবদান। কী এমন আশ্চর্য জারকরস নিহিত এসব শ্লোকের মধ্যে, তা উপলব্ধিরও বিষয় বৈ কি। অন্তত পরবর্তী শ্লোকগুলোর যথার্থ মাহাত্ম্য অনুধাবনের প্রয়োজনেই এ পর্যায়ে প্রাথমিক কিছু সুলুকসন্ধান করা অনুচিত হবে না বোধ করি। . আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, নীতিবাক্যের উদ্দেশ্য হলো আকর্ষণীয় উপায়ে কিছু উপদেশ বিতরণ বা নীতির প্রচার। আর তা নির্ভর করে এই নীতিগুলোর রচয়িতা বা প্রচারকের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সামাজিক অবস্থান এবং তৎকালীন প্রেক্ষাপটের উপর। কোন প্রক্ষিপ্ত সংযুক্তি না হয়ে প্রকৃতই এটা যদি চাণক্যের শ্লোক হয়ে থাকে, তাহলে চাণক্যের অধিষ্ঠানকাল বিবেচনায় শ্লোকটির রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকই বলতে হবে। তখনকার সামাজিক আবহটা কী ছিলো তবে ? . ধর্মীয় বর্ণবাদী ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রবল আধিপত্যের যাতাকলে পিষ্ট তৎকালীন সমাজ তখন খণ্ড-বিখণ্ডে বিভাজিত। একদিকে ব্রাহ্মণ্যবাদী শাসনের স্বঘোষিত মুখপাত্র উচ্চবর্ণীয় আর্য ব্রাহ্মণ বা দ্বিজ (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য) সম্প্রদায়ের হাতে শাসনদণ্ড, অন্যদিকে সমাজের সরাসরি উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর সাধারণ জনগোষ্ঠী যাদেরকে শুধু অনার্য বানিয়েই ক্ষান্ত হতে পারেনি এরা, তথাকথিত এক স্রষ্টা ব্রহ্মার আজগুবি গল্প ফেঁদে কাল্পনিক পূর্বজন্মের কৃতকর্মের ধর্মীয় দোহাই তোলে সুকৌশলে তাদেরকে নিম্নবর্গীয় শূদ্র বানিয়ে রাখা হয়েছে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত করে আক্ষরিক অর্থেই ভয়ঙ্কর এক ক্রিতদাস্যের শৃঙ্খলে। এবং এরা যাতে কখনোই একাট্টা বিদ্রোহী হয়ে এই অপশাসন-ব্যবস্থার জন্যে হুমকী হয়ে উঠতে না পারে সে লক্ষ্যে এই ব্রাত্য জনগোষ্ঠীকে আরো অনেক অনেক সামাজিক বিভাজনে পরস্পর বিভাজিত করে ভেঙে দিতে চেয়েছে তাদের মেরুদণ্ডের সবকটা কশেরুকা। আর এই ধর্মবাদী নিরঙ্কুশ শাসন নির্বিঘ্নে পরিচালনার লক্ষ্যে উপনিষদীয় ঋষি-ব্রাহ্মণদের হাতে রচিত হয়ে গেছে বেশ কিছু মোহনীয় শাস্ত্র, দর্শন এবং এর ভূরিভূরি ভাববাদী ব্যাখ্যাও। আর নিকৃষ্ট শূদ্রদের জন্য নিষিদ্ধ রয়েছে সকল ধরনের বিদ্যার্জন, শাস্ত্রপাঠ বা জ্ঞান অর্জনের যেকোন নগন্য সুযোগও। কেননা এরা এই সুযোগ পেলে বুঝে যাবে শাস্ত্রীয় ভণ্ডামির ফোকর-ফাকর, তছনছ হয়ে যাবে এতোকালের পরনির্ভরশীলতায় গড়ে তোলা যথেচ্ছ ভোগের অবারিত সাম্রাজ্য-সৌধ। . কিন্তু তাতেও কি নিরাপদ থেকেছে তারা ? খুব স্বাভাবিকভাবেই শ্রমে-ঘামে ভেজা ব্রাত্য জনগোষ্ঠী কখনোই মেনে নিতে চায়নি তা। তারা তাদের জীবনচর্চার প্রত্যক্ষ উপাদান লোকায়ত আচার-বিচারকে অবলম্বন করেই গড়ে তুলেছে এক অন্যরকম বিদ্রোহের দেয়াল। ব্রাহ্মণ্যবাদী ভণ্ডামির অন্তঃসারশূন্যতাকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে সৃষ্টি করেছে এক প্রতিবাদী দর্শন- যার নাম লোকায়ত দর্শন। মাটির সন্তান বলেই মৃত্তিকার রসসিঞ্চিত প্রত্যক্ষবাদী দৃষ্টিতে এরা পরাশ্রয়ী ব্রাহ্মণ্যবাদী ভাওতাবাজির সমস্ত কাল্পনিক উৎসকে সরাসরি অস্বীকার করে লোকায়ত চার্বাক দর্শনের নামে যুক্তির যে ধারালো বল্লম তুলে নিয়েছে হাতে, তা যে আর হেলাফেলার নয়, বড় শক্ত ভিতের উপর দাঁড়ানো, তা বুঝতে একটুও দেরি হয়নি ব্রাহ্মণ্যবাদী শাসকদের। ফলে ব্রাহ্মণ্যবাদী শাস্ত্র, ধর্ম, দর্শনেও এসেছে নতুন ঢাল। তাদের চোখে সেই লোকায়তিকরা হয়েছে নাস্তিক, কারণ ওরা বেদ মানে না। প্রত্যক্ষের বাইরে কোন কিছুই বিশ্বাস করে না ওরা, তাই ব্রাহ্মণ্যবাদের চোখে ওদের শানিত যুক্তি চিহ্নিত হয়েছে হেতুবিদ্যা বা অসৎ-তর্ক নামে। . এখন প্রশ্ন আসে, যুক্তির ধারে শানিত এই হেতুবিদ্যা কি প্রকৃতই কোন অজ্ঞ শাস্ত্রবিমুখ মূর্খের দ্বারা সৃষ্ট হওয়া সম্ভব ছিলো ? ব্রাহ্মণের অষ্টপ্রহর সেবায় নিয়োজিত আক্ষরিক গাধার মতো খেটে যাওয়া কোনরূপ শিক্ষার ন্যূনতম সুযোগহীন ক্রিতদাস শূদ্রদের দ্বারা নিশ্চয়ই এরকম সুশিক্ষিত উচ্চকোটির শাস্ত্র রচিত হওয়া সম্ভব ছিলো না। অর্থাৎ যে কোন অবস্থান থেকেই যুগে যুগে মানবদরদী মানবতাবাদী মুক্তচিন্তক কিছু মানুষের উত্থান সর্বকালেই হয়েছে যাঁরা মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছেন সবকিছু তুচ্ছ করে কেবলই মানবজন্মের দায়ভার কাঁধে নিয়ে। তাঁদের শরীরেও মাটির সোঁদা গন্ধই ছিলো নিশ্চয়ই। প্রাথমিক চার্বাকরা সেই বিরল গোত্রেরই মানুষ। অন্য দৃষ্টিতে তাঁদেরকে বার্হষ্পত্যও বলা হয়। এরা নাস্তিক। নইলে ব্রাহ্মণ্যবাদী সকল শাস্ত্রের সাংবিধানিক আকরগ্রন্থ ‘মনুসংহিতা’য় কেন স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে এভাবে- যোহবমন্যেত তে মূলে হেতুশাস্ত্রাশ্রয়াদ্ দ্বিজঃ। স সাধুভি র্বহিষ্কার্যো নাস্তিকো বেদনিন্দকঃ।। ২ / ১১।। (মনুসংহিতা)। অর্থাৎ : যে দ্বিজ হেতুশাস্ত্র অর্থাৎ অসৎ-তর্ককে অবলম্বন ক’রে ধর্মের মূলস্বরূপ এই শাস্ত্রদ্বয়ের (শ্রুতি ও স্মৃতির) প্রাধান্য অস্বীকার করে (বা অনাদর করে), সাধু ব্যক্তিদের কর্তব্য হবে- তাকে সকল কর্তব্য কর্ম এবং সমাজ থেকে বহিষ্কৃত করা (অর্থাৎ অপাংক্তেয় ক’রে রাখা)। কারণ, সেই ব্যক্তি বেদের নিন্দাকারী, অতএব নাস্তিক। যুক্তিহীন ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার এই শাস্ত্রসম্মত প্রাচীন নজির একালেও বিরল তো নয়ই, বরং ভিন্ন রূপে ভিন্ন মোড়কে তাকে আরো বেশি মাত্রায় সক্রিয় হতে দেখা যায় এখনো। তৎকালীন ব্রাহ্মণ্যবাদের অন্তঃসারশূন্য শান্ত্র-দর্শনের বিপরীতে জড়বাদী লোকায়ত চার্বাক দর্শনের এইযে বাস্তববাদী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িয়ে গেলো, তাকে প্রতিরোধ করতেই সে-সময়কার শাসকদের নিয়োজিত করতে হয়েছিলো তাদের সর্বময় শক্তি। তাদের দর্শনের প্রধান কাজই হয়ে দাঁড়ালো ওই লোকায়তের বাস্তব যুক্তি খণ্ডনের উপায় অন্বেষণ। আর এই শক্তির বলয় তৈরি করতে সৃষ্টি করতে হয়েছে সম্পূর্ণ এক পরভোজী সম্প্রদায়, উৎপাদন সংশ্লিষ্টতাহীন আরাম-আয়েশ-বিলাস-ব্যসনে মত্ত অঢেল সময় থেকে যাদের একমাত্র কাজ হলো নতুন নতুন ধর্মশাস্ত্রীয় কল্পনা, যুক্তি, তর্ক ইত্যাদির সমৃদ্ধিতে নিজেদের সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রাখা। রাজশক্তির সম্পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের অঢেল ভোগলিপ্সা পরিতৃপ্তির পাশাপাশি এরা রচনা করবে রাজশক্তিকে নিরাপদ রাখার যাবতীয় কলাকৌশল। এরাই ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়, ক্ষত্রিয় শাসনে তাদেরকে দেয়া হলো সর্বোচ্চ সম্মানে অধিষ্ঠিত বিদ্যাগুরুর পদ। এরাই চর্চা করবে যাবতীয় জ্ঞানবিজ্ঞানের, তৈরি করবে সামাজিক আইন, তাদের মুখনিঃসৃত বাণীই হবে নীতিশাস্ত্র, সংবিধান, পালনীয় আচার। কারণ তাঁরাই জ্ঞানী বা বিদ্বান হিসেবে স্বীকৃত। তাঁদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব নির্দেশ করে মনুশাস্ত্রে তাই বলা হচ্ছে- সর্বং তু সমবেক্ষ্যেদং নিখিলং জ্ঞানচক্ষুষা। শ্রুতিপ্রামণ্যতো বিদ্বান্ স্বধর্মে নিবিশেত বৈ।। ২ / ৮।। (মনুসংহিতা)। অর্থাৎ : বিদ্বান্ ব্যক্তি সমস্ত বিষয়ে [যা কৃত্রিম অর্থাৎ উৎপত্তিযুক্ত এবং যা অকৃত্রিম অর্থাৎ উৎপত্তিবিহীন, যা প্রত্যক্ষ প্রমাণগম্য এবং যা অনুমানাদি প্রমাণগম্য- এই সমস্ত জ্ঞেয় পদার্থ] জ্ঞানরূপ চক্ষুর দ্বারা [অর্থাৎ তর্ক, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, মীমাংসা প্রভৃতি বিদ্যাবিষয় আচার্যের মুখ থেকে শুনে এবং নিজে তা চিন্তা করে যে জ্ঞান উৎপন্ন হয়, তার দ্বারা] ভালোভাবে বিচারপূর্বক নিরূপণ করে বেদের প্রামাণ্য স্বীকার করে নিজ ধর্মে নিবিষ্ট হবেন। অতএব, বিদ্বানের তৎকালীন শাস্ত্রবিহিত সংজ্ঞাটা স্পষ্টভাবেই নির্দেশিত হয়ে গেছে। গুরু চাণক্য যে সেকালের সর্বশ্রেষ্ট বিদ্বান ছিলেন তা তাঁর জীবন চরিত থেকেই আমরা জানতে পারি। তিনি একাধারে শাস্ত্রজ্ঞ দার্শনিক, কূটনীতিজ্ঞ, জ্যোতির্বিদ, রতিশাস্ত্রবিদ, ন্যায়ভাষ্যকার, ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যবিস্তারকারী সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উপদেষ্টা গুরু ও প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ রাজপুরুষও এবং আরো অনেককিছু। ফলে তাঁর রচিত নীতিশাস্ত্রে বর্ণিত নীতিশ্লোকের মাহাত্ম্য অনেক গভীরেই প্রোথিত আছে বলাবাহুল্য। . সমাজে বিদ্বানের পরিচয় আমরা ইতোমধ্যে পেয়ে গেলেও বিদ্যা বলতে প্রকৃতই কী বোঝানো হয়েছে তা মনুসংহিতার অবশ্যপালনীয় বিধান থেকে মোটামুটি একটা চিত্র আমরা পেয়ে যাই। তবু এ ব্যাপারে যাতে কোন অস্পষ্টতা না থাকে সেজন্যেই সাম্রাজ্য পরিচালনার যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রনায়কদের পালনীয় নীতিকোষ হিসেবে কৌটিল্য ছদ্মনামে রচিত চাণক্যের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকরগ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্রে’ প্রয়োজনীয় বিদ্যা বলতে কী বোঝায় তা তিনি স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন- ‘আন্বীক্ষিকী ত্রয়ী বার্তা দণ্ডনীতিশ্চেতি বিদ্যাঃ। ১/২/১ (কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র)। অর্থাৎ : আন্বীক্ষিকী, ত্রয়ী, বার্তা ও দণ্ডনীতি- এই চারটিই বিদ্যা। ত্রয়ী অর্থ বেদ। ঋগে¦দ, সামবেদ, যজুর্বেদ এই তিনটি একত্রে বেদ। সেকালে তখনো চতুর্থ বেদ অর্থাৎ অথর্ববেদ সংগৃহীত হয়নি বা তখনো তা বেদ হিসেবে গুরুত্ববহ স্বীকৃতি পায়নি বলে প্রাচীন শাস্ত্রে বেদকে ত্রয়ী হিসেবেই উল্লেখ করা হয়। দণ্ডনীতি হলো রাজকার্য পরিচালনার বিধান। বার্তা হলো কৃষি ইত্যাদি অর্থনীতিসংক্রান্ত বিদ্যা। আর আন্বীক্ষিকী হলো তর্কবিদ্যা। এ সম্পর্কে অর্থশাস্ত্রেই বলা হচ্ছে- ‘প্রদীপঃ সর্ববিদ্যানামুপায়ঃ সর্বকর্মনাম্ । আশ্রয়ঃ সর্বধর্মানাং শশ্বদান্বীক্ষিকী মতা।। ১/২/১১।। (কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র) অর্থাৎ : সব রকম বিদ্যার প্রদীপ, সব কাজের উপায় এবং সকল ধর্মের আশ্রয় হলো আন্বীক্ষিকী। বুঝাই যাচ্ছে, প্রচলিত ধর্মকে রার করার উপায় হিসেবে সৃষ্ট ন্যায়শাস্ত্র, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, মীমাংসা ইত্যাদি ধর্মীয় শাস্ত্রকে হেতু বা যুক্তির মাধ্যমে ধর্ম-অধর্ম, অর্থ-অনর্থ, ফলাফল ইত্যাদির বিচার করে বেদের প্রামাণ্য প্রতিষ্ঠা করাই আন্বীক্ষিকীর উদ্দেশ্য। আর এজন্যেই লোকায়ত বার্হষ্পত্যরা আন্বীক্ষিকীকে প্রামাণ্য বিদ্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেন না। আর ত্রয়ী বা বেদকে তো প্রামাণ্য মানতেই নারাজ। কারণ তাঁদের মতে- ‘তদপ্রামাণ্যমনৃত-ব্যাঘাত-পুনরুক্ত-দোষেভ্যঃ’। ৫৮। (বার্হস্পত্যসূত্র) অর্থাৎ : এতে (বেদে) অনৃত দোষ বা মিথ্যে কথা, ব্যাঘাত দোষ বা পরস্পর বিরুদ্ধ কথা এবং পুনরুক্ত দোষ পূর্ণ। . ‘ধূর্ত্ত-প্রলাপস্ত্রয়ী’। ৫৯। (বার্হস্পত্যসূত্র) অর্থাৎ : (বেদের কর্তা) ভণ্ড, ধূর্ত, নিশাচর ত্রয়ী। লোকায়তিকরা প্রত্যক্ষের বাইরে কোন কিছুকেই প্রমাণ হিসেবে মানেন না। তাই কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্রে বার্হস্পত্যদের সম্পর্কে উক্তি করেছেন- ‘বার্তা দণ্ডনীতিশ্চেতি বার্হস্পত্যাঃ। ১/২/৪। (কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র) অর্থাৎ : বার্হস্পত্যদের মতে বিদ্যা হলো দুটি- দণ্ডনীতি এবং বার্তা। কৌটিল্য যে বার্হস্পত্যদের সাথে কোনভাবেই একমত নন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা তিনি তো বিদ্যা অর্থে চারটি শাস্ত্রকেই নির্দেশ করেছেন। অতএব, কৌটিল্য তথা চাণক্যের নীতিশ্লোকে বর্ণিত বিদ্বানের আয়ত্তে কোন্ কোন্ বিদ্যা থাকবে তা পরিষ্কার। সমাজকে তাঁদের চাওয়া অনুযায়ী এগিয়ে নেয়ার প্রয়োজনে যেসব শাস্ত্রে বুৎপত্তি, দক্ষতা ও লক্ষ্যনিষ্ঠ সক্রিয়তা থাকা দরকার মনে করেছেন, সেটাই নীতিশাস্ত্রের মাধ্যমে সমাজকে জানিয়ে দিয়েছেন। মোড়কের বাইরে বিদ্যা নাম নিয়ে কোন আপত্তি না-থাকলেও বিদ্যার সংজ্ঞা, কাঠামো, উৎস বা লক্ষ্য নিয়ে তৎকালীন দার্শনিক চিন্তকদের মধ্যে যে প্রচণ্ড অন্তর্বিরোধের সাংঘর্ষিক উপাদান সক্রিয় ছিলো তাও নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছি আমরা। আর আজ থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বেকার সমাজ ও তার ভৌগোলিক অবস্থা, যোগাযোগ কাঠামো, জীবনধারণ পরিবেশ ইত্যকার বিষয় বিবেচনায় নিলে সে-সময় প্রবাস বলতে নিশ্চয়ই অত্যাধুনিক উড়োজাহাজে চড়ে সুদূর মার্কিনদেশ বা পাশ্চাত্যের ইউরোপ ভ্রমণ বোঝাতো না। খুব স্বাভাবিকভাবে আশেপাশের কোন গমনযোগ্য রাজ্য বা অঞ্চল কিংবা তৎকালীন বৃহত্তর ভারতবর্ষকেই বোঝানো হতো। ফলে বিদ্বান সর্বত্র পূজনীয় বলা হলেও এই সর্বত্রেরও যে একটা সীমিত ভৌগলিক কাঠামো ছিলো তাও বোঝার বাকি থাকে না। ওই কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়ন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যবহারিক মূল্যের আলোকেই বিদ্যাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ঠিক এই বিষয়টিকে মাথায় রাখলেই আমরা নীতিশাস্ত্রের সেই চিরায়ত সুরের খোঁজটি পেয়ে যাই। যেখানে প্রয়োজনীয় সমকালীন তান সংযুক্ত করে দিলেই তা যুগোপযোগী হয়ে ওঠতে পারে। আর তাই এই নীতিকথাকে আমরা পরিত্যাগ করতে পারি না তো বটেই, বরং সময়ের তরতাজা ক্রমানুক্রমিক রসে সিক্ত হয়ে তা আমাদের জন্য কালোত্তীর্ণ এক চিরকালীন অমূল্য রত্ন হিসেবেই আগ্রহের বিষয়বস্তু হয়ে থাকে। . এবার তাহলে আমরা ফিরে যাই নীতিশ্লোকটির কাছে। কোন রাজাধিরাজ নয়, বিদ্বানই সর্বত্র পূজিত হন। কারণ তিনিই বিদ্বান্ যিনি সেই বিদ্যাটিই আয়ত্ত করেন যা দিয়ে সমাজ-সভ্যতার অগ্রযাত্রা আরো বেগবান, সৃষ্টিশীল ও বহুমাত্রিক হয়ে ওঠে। আর যা আঁকড়ে থাকলে সমাজ স্থবিরতায় আক্রান্ত হয়, সম্মুখগতি হারিয়ে পেছনমুখি হয় সেটা কোন বিদ্যাই নয়। তাই ওইসব প্রাগৈতিহাসিক জঞ্জালবিদ্যায় পাণ্ডিত্যের পাহাড় জমিয়ে তাকে রিসাইক্লিং না করে কেবলি ঘাটাঘুটি করলে পচা-গলা-বাসি অস্বাস্থ্যকর দুর্গন্ধই ছড়াবে শুধু, সমাজ আক্রান্ত হবে অথর্বতায়, কিন্তু কোন বিদ্যা বা বিদ্বান বেরুবে না যিনি মানুষকে সামনে যাবার পথটা দেখিয়ে দেবেন। সর্বত্র পূজিত বিদ্বান তিনিই যিনি যে-সমাজের অধিবাসীই হোন না কেন বৃহত্তর মানবসমাজকে সামনে এগিয়ে যাবার পথটা তৈরি করে দেন তার সমকালীন বিদ্যার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে। দেশ-কাল অতিক্রম করে মানবসভ্যতা যাদের কাছে ঋণী, সভ্যতার প্রারম্ভিক কাল থেকে একাল পর্যন্ত এরকম বহু বহু বিদ্বানের নাম যুগে যুগে মানবেতিহাসের অত্যুজ্জ্বল পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিত হয়ে আছে। কিন্তু এরা কেউ ধর্মপ্রচারক ছিলেন না। ধর্মের কূপমণ্ডূকতায় আবদ্ধও ছিলেন না এরা। . এসব নীতিশ্লোককে কেন্দ্র করে যুগে যুগে অনুসন্ধিৎসু জ্ঞানপিপাসুরা হয়েছেন প্রাণিত, বহু কবি তাঁদের সৃষ্টিকর্মকে করেছেন উজ্জ্বল। সাহিত্যে কাব্যে উপকথায় পল্লবিত হয়েছে অপরূপ বর্ণচ্ছটায়। আড়াই হাজার বছর পেরিয়ে আমরাও এখনো স্মরণ করছি এসব। এবং এ থেকেই এসব নীতিশ্লোকের অন্তর্নিহিত শক্তি ও সুদূরপ্রসারি প্রভাবটুকু অনুধাবন করা যায় সহজেই। চাণক্যের এই নীতিশ্লোক রচনার প্রায় তিনশ বছর পরের খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকের আরেক সংস্কৃত কবিশ্রেষ্ঠ ভর্তৃহরির নীতিকাব্যেও দেখি তাই চাণক্যেজনের ছায়া- বিদ্যা নাম নরস্য রূপমধিকং প্রচ্ছন্নগুপ্তং ধনং বিদ্যা ভোগকরী যশঃসুখকরী বিদ্যা গুরূণাং গুরুঃ। বিদ্যা বন্ধুজনো বিদেশগমনে বিদ্য পরা দেবতা বিদ্যা রাজসু পূজিতা ন তু ধনং বিদ্যাবিহীনঃ পশুঃ।। ২০।। (ভর্তৃহরির নীতিশতক)। অর্থাৎ : বিদ্যা মানুষের শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য ও গোপনে রক্ষিত (বহুমূল্য) ধন। বিদ্যা (মানুষকে) ভোগ দেয়, দেয় সুখ ও সুখ্যাতি। বিদ্যা গুরুর(-ও) গুরু। প্রবাসে বিদ্যা(-ই) বন্ধু। বিদ্যা পরম দেবতা। রাজসভায় বিদ্যা(-ই) সমাদৃত হয়, ধন নয়। (তাই) বিদ্যা যার নেই সে পশু(তুল্য)। .. Created with My Clipboard for Android: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.wb.myclipboard

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জীবনে লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র চাবি হলো সাহস। নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য সাহসী হওয়ার বিকল্প নেই৷ সাহসীরা ব্যর্থ হয় না।

জীবনে লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র চাবি হলো সাহস। নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য সাহসী হওয়ার বিকল্প নেই৷ সাহসীরা ব্যর্থ হয় না।